Dr. Raiiq Redwan, a Bangladeshi doctor and passionate globetrotter, has visited 138 countries despite the challenges of travelling with a Bangladeshi passport. Balancing a demanding medical career with his passion for exploration and humanitarian work, he recently joined a medical mission in Gaza. With a goal of visiting 200 countries, his journey is an inspiring testament to determination, resilience, and the power of dreams.
পাসপোর্ট বাংলাদেশি, স্বপ্ন বিশ্বজয়ের: ১৩৮ দেশ ঘুরে বেড়ানো চিকিৎসক রাইয়িক রিদওয়ানের গল্প
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে যারা ভ্রমণ করেন, তারা খুব ভালো করেই জানেন ভিসা পাওয়ার ঝক্কি কতটা পাহাড়সম। কিন্তু স্বপ্ন যদি হয় আকাশছোঁয়া আর ইচ্ছেশক্তি যদি হয় ইস্পাতকঠিন, তবে কোনো বাধাই যে আটকে রাখতে পারে না, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন ডা. রায়ীক রেদওয়ান। পেশায় যিনি একজন বাংলাদেশি জরুরি বিভাগের (ইআর) চিকিৎসক, আর নেশায় তিনি একজন বিশ্বভ্রমণকারী বা গ্লোবেট্রেটার। ভিসা জটিলতা এবং তথাকথিত ‘দুর্বল’ পাসপোর্টের তকমাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ডা. রায়ীক এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৩৮টি দেশ ভ্রমণ করেছেন। তার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো বিশ্ব মানচিত্রের ২০০টি দেশ ছুঁয়ে দেখা।
যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় স্নাতক সম্পন্ন করা ডা. রায়ীক রেদওয়ান বর্তমানে লন্ডনের নামী চেলসি অ্যান্ড ওয়েস্টমিনস্টার হাসপাতালসহ কেমব্রিজের বিভিন্ন হাসপাতালে ইমার্জেন্সি মেডিসিন রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তার এই ব্যস্ত চিকিৎসা পেশা কখনোই তার বিশ্বভ্রমণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। একদিকে হাসপাতালে মুমূর্ষু রোগীর প্রাণ বাঁচানোর লড়াই, অন্যদিকে সুযোগ পেলেই নতুন কোনো দেশের উদ্দেশ্যে ডানা মেলা, এই দুইয়ের এক দারুণ ভারসাম্য বজায় রেখে চলছেন তিনি।
ডা. রায়ীক শুধু একজন পর্যটকই নন, তার রয়েছে এক বিশাল মানবিক হৃদয়। অতি সম্প্রতি, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, তিনি গাজায় একটি জরুরি মানবিক চিকিৎসা মিশনে যোগ দেন। ‘গিফট অব ডিজ্যাবিলিটি অ্যালভিয়েশন’ (GODA) নামক একটি সংস্থার মাধ্যমে তিনি সরাসরি যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ফ্রন্টলাইনে গিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। সেখানে স্থানীয় চিকিৎসকদের জরুরি চিকিৎসা বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেন তিনি, যা আন্তর্জাতিক মহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।
বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে ভ্রমণ করার অভিজ্ঞতা সবসময় সুখকর ছিল না রায়ীকের জন্য। তবে এই অম্ল-মধুর অভিজ্ঞতাগুলোকেই তিনি সম্বল করেছেন। আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বিষয়ক বড় বড় সেমিনারে এখন তিনি একজন নিয়মিত স্পিকার। বিশ্বখ্যাত ‘এক্সট্রাঅর্ডিনারি ট্রাভেল ফেস্টিভ্যাল’-এ তার দেওয়া একটি বক্তব্য, “দ্য গুড, দ্য ব্যাড অ্যান্ড দ্য আগলি: আ বাংলাদেশি ডক্টরস এক্সপেরিয়েন্স অব ট্রাভেলিং অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড” বিশ্বজুড়ে ভ্রমণপিপাসুদের মাঝে ব্যাপক অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। চিকিৎসা আর ভ্রমণের পাশাপাশি ডা. রায়ীক রেদওয়ান একজন ইসলামিক স্টাডিজ গ্র্যাজুয়েট এবং সার্টিফাইড লাইফ কোচ। জীবনের নানা মানসিক চাপ, হতাশা ও উদ্বেগ কাটিয়ে কীভাবে উৎপাদনশীল বা প্রোডাক্টিভ থাকা যায়, তা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত লেখালেখিও করেন তিনি।
তাঁর এই জীবনগল্প আমাদের শেখায়, পাসপোর্টের র্যাংকিং যাই হোক না কেন, মনের শক্তি আর লক্ষ্য যদি স্থির থাকে, তবে গোটা পৃথিবীটাকেই আপন করে নেওয়া সম্ভব। তরুণ প্রজন্মের জন্য তিনি এখন এক জীবন্ত অনুপ্রেরণার নাম।










