Home AI+Tech বাংলাদেশ থেকে সিলিকন ভ্যালি- ২২ বছর বয়সে AI কোম্পানি প্রতিষ্ঠা

বাংলাদেশ থেকে সিলিকন ভ্যালি- ২২ বছর বয়সে AI কোম্পানি প্রতিষ্ঠা

62
0

আগামীর ‘মার্ক জাকারবার্গ’ বাংলাদেশের ‘ইশরাক’

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেওয়া এক কিশোর—নাম তার ইশরাক খান। পকেটে ছিল কিছু স্বপ্ন, আর হাতে শুধু বাবার দেওয়া একটি ল্যাপটপ।

সেই ছেলেই আজ যুক্তরাষ্ট্রে দাঁড় করিয়েছেন একটি এআই কোম্পানি—Codegi। আর ২২ বছর পূরণের আগেই সংগ্রহ করেছেন ২০ লাখ ডলারের বেশি বিনিয়োগ—
কলেজে একদিনও না গিয়েই।

🎯 শুরু: ইউটিউব ভিডিও থেকে কোডিংয়ের প্রেম

ইউটিউবে এক কোডিং টিউটোরিয়াল দেখে ইশরাক প্রথম কোড শেখা শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে ভাষা শেখার জন্য ইউটিউব-এর ভিডিও দেখতেন, পরের ভিডিও হিসেবে এল “Java Programming” রিলেটেড একটি ভিডিও — আর এই ভিডিওটাই বদলে দিল তার জীবন।

স্কুলে ক্লাস চলাকালীন তিনি লক্ষ্য করেছিলেন যে, প্রোগ্রামাররা সবচেয়ে বেশি সময় কাটান কোডের ভুল সারাতে। সেই চিন্তা থেকেই মাথায় আসলো এক প্রশ্ন:


👉 কোডারদের জন্য ‘Grammarly’-র মতো কোনো টুল কেন নেই, যেটি ভুল নিজেই ঠিক করে দেবে?
এ ভাবনাই পরে তৈরি করে দেয় তার প্রথম প্রোটোটাইপ।


✉️ ১৭-তে বড় পদক্ষেপ: ই-মেইল আর হাল না ছাড়া

অনেকেই মনে করেন স্টার্টআপ মানেই বড় অফিস বা বড় ফান্ড — কিন্তু ইশরাকের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত ছিল একটি নির্দিষ্ট ই-মেইল।
তিন বেলা ক্লাসের ফাঁকে তিনি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, গবেষক ও বিনিয়োগকারীদের ঠান্ডা ই-মেইল করতে শুরু করেন — ইন্টার্নশিপ চাইতে, পরামর্শ নিতে, নিজের আইডিয়া শেয়ার করতে।

একবার তিনি একটি টেক ইভেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য ৫০০ ডলারের বুথ ফি দিতে না পারলেও, সেই ই-মেইলের বদলে তিনি ফ্রি বুথ পেয়ে যান। পরে সেই ইভেন্টের গল্প শেয়ার করলে তিনি পান তার প্রথম অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর। ১৮ হওয়ার আগেই হাতে আসে প্রথম ২০,০০০ ডলার।


⚙️ এআই তখনও গোলযোগে — কিন্তু তিনি বিশ্বাস ধরে রাখেন

ChatGPT এবং জেনারেটিভ AI যখন এখনকার মতো আলোচিত ছিল না, তখনই ইশরাক একটি AI-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছিলেন — এটি এমন একটি টুল যা কোডের ভুল সারাতে পারে, ভুলের কারণ বুঝতে পারে এবং সমাধানও দিতে পারে। অনেকেই সন্দেহ করছিলেন,


👉 “একটি কিশোর কি এমন AI বানাতে পারবে?”
তবুও ইশরাক বিশ্বাস রেখে এগিয়ে যান।

১৯ বছর হওয়ার আগেই তিনি প্রায় ৮ লাখ ডলার তুলেছিলেন। ২২ বছর বয়সের আগেই তার সংস্থা-তে মোট সংগ্রহ হয়েছে ২ মিলিয়ন ডলার বা তারও বেশি বিনিয়োগ


📚 কলেজ না, কোম্পানি হোক

ইশরাক আইভি-লিগসহ কয়েকটি কলেজে সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তার মতে,

“কলেজে পরে যাওয়া সম্ভব; কিন্তু এআই কোম্পানি গড়ার এই সুযোগ এখনই না নিলে, আমি অনেকের চেয়ে পিছিয়ে পড়ব।”

আজ তার কোম্পানি Kodezi-তে কাজ করছেন ৩০+ কর্মী, যারা বিশ্বব্যাপী প্রকৌশলীদের জন্য সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনা করার AI তৈরি করছে।


🌟 স্বপ্নের লক্ষ্য

ইশরাক নিজেই বলেন,

“যদি কোড লেখা হয় গাড়ি তৈরি করার মতো, তবে আমাদের কাজ হলো সেই গাড়িটিকে সচল রাখার জন্য একজন মেকানিক হওয়া। আমরা সফটওয়্যারের সেই স্বয়ংক্রিয় মেকানিক হতে চাই।”

এ গল্পটি শুধু প্রযুক্তি সফলতার গল্প নয় — এটা স্বপ্ন দেখার, নিজেকে বিশ্বাস করার, এবং কম উৎসাহ পেলে হাল না ছাড়ার গল্প।
একটি প্রশ্ন থেকে শুরু হয়ে, হাজারো ই-মেইল আর কঠোর পরিশ্রমের ফসল আজ একটি বৈশ্বিক AI কোম্পানি


সংক্ষিপ্ত

– জন্ম ঢাকা, বড় হওয়া যুক্তরাষ্ট্রে
– নিজেইং ইংরেজি ও কোড শিখেছেন
– কলেজ না গিয়েই শুরু করেন স্টার্টআপ
– ২২ বছর বয়সে তুলেছেন $2M+ বিনিয়োগ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here